
নিজস্ব প্রতিনিধি :
নৌ পরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কন্টেইনার টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে। তখন আমাদের বন্দর কার্যক্রম সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে।
তিনি আজ সংসদে চট্টগ্রাম -১৫ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে সরকার। লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ডেনমার্কের একটি বিশ্বখ্যাত কোম্পানি সম্মতি দিয়েছে। অন্যদিকে বে-টার্মিনাল-১ পরিচালনায় সিঙ্গাপুর ভিত্তিক পিএসএ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘লালদিয়া নিয়ে একটি যুগান্তকারী খবর রয়েছে। ডেনমার্কের একটি বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং এনসিটি (নিউ কন্টেইনার টার্মিনাল) পরিচালনায় সম্মতি দিয়েছে।’
তিনি জানান, বে-টার্মিনাল-১ পরিচালনার জন্য সিঙ্গাপুরের পিএসএ কোম্পানির সঙ্গে ইতোমধ্যে এমওইউ সই হয়েছে। এছাড়া বে-টার্মিনাল-২ নিয়ে বিশ্বের অন্যতম বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর বে-টার্মিনাল-৩ বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনাময় সব কন্টেইনার টার্মিনাল কার্যক্রমে আসবে এবং দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
রবিউল আলম আরও বলেন, বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে গভীর সমুদ্রবন্দরে (ডিপ-সি পোর্ট) জাহাজের অপেক্ষার সময় প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। আগে যেখানে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন তারা সরাসরি বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ দিন সময় লাগছে। তবে নতুন টার্মিনালগুলো চালু হলে এই সময় অর্ধেক দিনের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’
মন্ত্রী বলেন, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক সমুদ্রবন্দরে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে, ব্যবসায়িক ব্যয় কমবে এবং বাংলাদেশ আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সূত্র : বাসস…

