
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান :
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে এবং এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ের অপেক্ষা।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আসামিপক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে তার বক্তব্যের জবাব দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার নথি অনুযায়ী, চারজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ৭ জুন প্রসিকিউশন পক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। ১১ মে মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ যেকোনো দিন এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করতে পারেন।
আইনগতভাবে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতের বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

