
মুহাম্মাদ রাকিবুল ইসলাম-ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ১নং বুলাকিপুর ইউনিয়নের হরিপাড়া গ্রামের অসহায় বিধবা শাফিয়া বেগমের দুর্ভোগ যেন থামছেই না। গত ২৪ মে রাতের ভয়াবহ ঝড়ে তার একমাত্র বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
এরই মধ্যে গতকালের ঝড় ও বৃষ্টিপাত তার দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাফিয়া বেগম তার মাদ্রাসাপড়ুয়া সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ওই ঘরেই বসবাস করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি সন্তানকে শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নিতে সংগ্রাম করে আসছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ ঝড়ে তাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও ধ্বংস হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘরের টিন, বাঁশ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত টিন ও পলিথিন দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও সেটি কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে, ভিজে যায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাফিয়া বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছি। নিজের কষ্টের কথা ভাবিনি, শুধু ছেলেটার ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি। কিন্তু ঝড়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। ছেলেকে নিয়ে কোথায় থাকব, বুঝতে পারছি না।”
এলাকাবাসী জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। বিধবা নারীটির পক্ষে নিজ খরচে ঘর পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব নয়। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে তিনি এবং তার পরিবার আরও বড় সংকটে পড়বেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য জরুরি ভিত্তিতে টিন, আর্থিক সহায়তা এবং একটি নিরাপদ বসতঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
খবর লেখা পর্যন্ত বিধবা শাফিয়া বেগম, তার বৃদ্ধা মা ও মাদ্রাসাপড়ুয়া সন্তান অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছিলেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করবে।

