
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলতি মৌসুমে রসালো ফল লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় এবার উৎপাদন ও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় মোট ৫৫৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২৯ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাজারে সুস্বাদু ও রসালো এই ফল আসতে শুরু করেছে। বাজারে প্রতি শত লিচু আকার ও মানভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো ফলন ও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় লিচু চাষিদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সীমান্তবর্তী কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়ি লাল মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ বেশি হয়। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লিচুর বাগান রয়েছে বিজয়নগর উপজেলায়। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এই অঞ্চলের লিচুর চাহিদাও দেশজুড়ে।
বিজয়নগরের পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, খাটিঙ্গা, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, কালাছড়া, মেরাসানি, কামাল মোড়া, নূরপুর, হরষপুর, ধোরানাল, মুকুন্দপুর, সেজামুড়া, নোয়াগাঁও, অলিপুর, চান্দপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, রূপা, শান্তামোড়া, কচুয়ামোড়া ও ভিটি দাউদপুর এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। এছাড়া আখাউড়া উপজেলার ধলেশ্বর, রাজাপুর, আমোদাবাদ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ এবং কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ও বায়েক ইউনিয়নেও ব্যাপক লিচুর ফলন হয়েছে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের লিচু এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে পাকলেও, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের লিচু মে মাসের প্রথম দিকে বাজারে আসার উপযোগী হয়। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার বসে ‘আউলিয়া বাজারে’। এছাড়া মেরাসানিতেও পাইকারি লিচু বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা, কুমিল্লা, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও ফেনীর ব্যবসায়ীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও দেখে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পরিবার নিয়ে ছুটে আসছেন বিজয়নগরের লিচু বাগানগুলোতে। বাগানে এসে নিজ হাতে গাছ থেকে পেড়ে তাজা লিচু খাওয়ার অন্যরকম এক আনন্দ উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।
বাগানে ঘুরতে আসা চিকিৎসক দম্পতি শ্যামল দেবনাথ ও শিবলী দেবী জানান,
”ফেসবুকে বিজয়নগরের চমৎকার লিচু বাগানের ছবি দেখে আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি। নিজ হাতে গাছ থেকে নামিয়ে একদম তাজা লিচু খেতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এখানকার লিচু সত্যিই অসাধারণ সুস্বাদু।”
একইভাবে স্ত্রীকে নিয়ে বাগানে আসা চিকিৎসক হিমেল খানও গাছ থেকে নিজে লিচু পেড়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতাকে দারুণ বলে অভিহিত করেন।
বিজয়নগর উপজেলার কালাছড়া গ্রামের লিচু চাষী রহমত আলী জানান, তিনি ৬০টি গাছের একটি বাগান চার লাখ টাকায় কিনেছেন। বর্তমানে বাজারে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছেন। বাগান থেকেই দর্শনার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী লিচু কিনে নিচ্ছেন। এর মধ্যে ‘চায়না থ্রি’ লিচু প্রতি শত ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ‘বোম্বে’ লিচু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা শ’ দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পাইকারি বিক্রিও পুরোদমে চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন,
”ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটির গুণাগুণ লিচু উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, বিশেষ করে বিজয়নগর উপজেলায় লিচুর চমৎকার ফলন হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যার সুফল এবার চাষিরা পাচ্ছেন।”

