
মোঃ রফিকুল ইসলাম মৃধা :
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত ১৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আরপিসিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভূমি অধিগ্রহণের শুরুতে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ঘরে ঘরে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দীর্ঘ ৮ বছরেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণকৃত দাশের হাওলা, মরিচবুনিয়া ও মধুপাড়া গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা এখনো কাঁচা এবং চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের যাতায়াতের মূল সড়কগুলো কংক্রিট ঢালাই দিয়ে ৬ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে আরপিসিএল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গিলাতলী, মধ্য লোন্দা ও আশপাশের গ্রামগুলোর সড়ক ব্যবস্থাও চরম নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া মরিচবুনিয়া ও গন্ডাবাদী গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ধানখালীর কোডেক বাজারের একমাত্র সংযোগ সেতুটিও এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরপিসিএল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধ ভেঙে ধানখালীর একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ খাল বালুতে ভরাট হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত খাল খননে কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তদুপরি, প্রজেক্টের আশপাশের প্রায় ৬০০ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী হয়ে থাকায় বছরের পর বছর চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এসব উর্বর জমি এখন সম্পূর্ণ অনাবাদী।
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের “স্বপ্নের ঠিকানা” ও আরপিসিএল-এর “আনন্দপল্লী” আবাসন প্রকল্পে পুনর্বাসিত পরিবারগুলো এখনও তাদের ঘরবাড়ির স্থায়ী মালিকানার সরকারি দলিল পায়নি। অন্যদিকে, এলাকায় দুটি মেগা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় যুবসমাজের বেকারত্ব কমেনি। কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকার শিক্ষিত ও সাধারণ তরুণদের একটি বড় অংশ হতাশ হয়ে মাদক ও চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের ব্যানারে ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন করা হয়েছিল। সে সময় কর্তৃপক্ষ নানা আশ্বাস দিলেও গত দুই বছরেও তার কোনোটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এই মিথ্যা আশ্বাসের প্রতিবাদে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, বন্ধ রাস্তা খুলে দেওয়া, স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এবার পায়রা ও আরপিসিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একত্রিত হয়ে যৌথ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
উক্ত সমাবেশে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন রবিউল আউয়াল অন্তর, শাহ আলম, সাবেক ইউপি সদস্য নাছির তালুকদার, ইউপি সদস্য প্রার্থী বাচ্চু মৃধা, খবির খাঁ, মাসুম বিল্লাহ, কলি বেগম, তানভীর ও মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীবৃন্দ।

