
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের এক সফল অভিযানে সিএনজি চালককে মারধর ও হাত-পা বেঁধে ছিনতাই হওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে এই আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতাসহ সক্রিয় ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ (২৩ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। গ্রেফতারকৃতরা প্রত্যেকেই পেশাদার অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার বিবরণী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন সুলতানপুর-কাউতলী হাইওয়ে সড়কের ভাদুঘর রামরাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে একদল অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী হানা দেয়। তারা মোঃ আব্দুল হাকিম এর মালিকানাধীন সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির গতিবিধি রোধ করে চালককে মারধর করে এবং হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে গাড়িটি ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরবর্তীতে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ছিনতাই হওয়া গাড়ি উদ্ধার ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে সদর মডেল থানা পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে:
প্রথম গ্রেফতার: গত ২১ মে ২০২৬ রাত ৩টার দিকে সদর থানার ভাদুঘর এলাকা থেকে এই ঘটনার অন্যতম সন্দিগ্ধ আসামি মোঃ আব্দুল্লাহ প্রকাশ সাহস মিয়াকে আটক করা হয়। থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং মামলার বাদীও তাকে সরাসরি শনাক্ত করেন। আব্দুল্লাহ জানায়, তারা তিন সদস্য মিলে এই ছিনতাইটি সম্পন্ন করেছিল।
পরবর্তী অভিযান ও বাকিদের গ্রেফতার: আব্দুল্লাহর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২২ ও ২৩ মে সদর থানার ভাদুঘর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ছিনতাইয়ে সরাসরি জড়িত অপর আসামি পায়েল পাঠানকে এবং ছিনতাইকৃত গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ও সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত ইয়াছিন ও সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পীরবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়িটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার ও জব্দ করতে সক্ষম হয়।
এদিকে, গ্রেফতারকৃত মূল হোতা আব্দুল্লাহ ছিনতাইকৃত সিএনজি বিক্রির চোরাই টাকার ভাগ থেকে নগদ ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত ৪ আসামির প্রত্যেকেই এলাকার কুখ্যাত ও পেশাদার অপরাধী। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে গাড়ি ছিনতাই, চালকদের জিম্মি করা ও চোরাই গাড়ি বেচাকেনাই তাদের মূল কাজ। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের একাধিক চুরি, ছিনতাই ও মাদক মামলা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য কোনো সদস্য রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধ দমনে এবং জেলাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই কঠোর আভিযানিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

