
আরিয়ান ইসলাম
ব্রাইট স্কুল ও কলেজের পরিচালক লিটনের বিরুদ্ধে সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে যেখানে উদ্ভট নিয়ম আর কঠোর শাস্তিমূলক সংস্কৃতির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগের চিত্র ফুটে উঠেছে। অভিযোগে বলা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে ফলাফলকেন্দ্রিক একটি কৃত্রিম সাফল্যের পরিবেশ তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের সীমিত কিছু বিষয় মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য করা হতো এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হলে তাদের অপমান, ভীতি প্রদর্শন ও মানসিকভাবে চাপে রাখা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। একাধিক অভিভাবক দাবি করেছেন কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নানা অজুহাতে ফি বাড়ানো এবং অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জানান, অভিভাবকদের ডেকে এনে প্রকাশ্যে অপদস্থ করা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মসম্মানবোধ ভেঙে দেওয়ার মতো আচরণ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী এসব মানসিক নির্যাতনের প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনার পেছনেও প্রতিষ্ঠানের এই পরিবেশকে দায়ী করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও ভুক্তভোগীদের ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয় যেখানে শিক্ষার নামে শৃঙ্খলার আড়ালে মানবিকতা উপেক্ষিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

