
মোঃ সেকেন্দার আলী-বিশেষ প্রতিনিধি (নওগাঁ) :
নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও একটা কার্ড পাইনি। তারা দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। ভেবেছিলাম চাল পেলে ঈদের দিন সন্তানদের মুখে একটু জমাট ভাত তুলে দেব, তাও হলো না।” চোখের জল মুছতে মুছতে এভাবেই নিজের আকুতি জানাচ্ছিলেন নওগাঁর ধামইরহাট পৌরসভার বেশ কয়েকজন অসহায় বৃদ্ধা।ঈদুল আজহা উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি এম এম ডিগ্রি কলেজ মাঠে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দরিদ্রদের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণের কথা থাকলেও ওজনে প্রায় ১ কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উৎসবের এই দিনেও মুখে হাসি ফোটেনি প্রকৃত দুস্থদের। অভিযোগ উঠেছে, গরিবের মুখের এই আহার চলে গেছে রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে।পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এবার মোট ৩ হাজার ৮৫টি কার্ড বরাদ্দ আসে। পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী সজল কুমার মন্ডল জানান, এর মধ্যে পৌর বিএনপিকে ১ হাজার ৩০০ এবং জামায়াতে ইসলামীকে ১ হাজার কার্ড দেওয়া হয়েছে। আর সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা ৬ জন কাউন্সিলর পেয়েছেন মাত্র ৬০০টি কার্ড।কাউন্সিলররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ওয়ার্ড ভিত্তিক মাত্র ৫০টি করে কার্ড দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগই চালের কার্ডই নিয়ে গেছেন রাজনৈতিক নেতারা।”কার্ড না পেয়েও একমুঠো অন্নের আশায় সকাল থেকে মাঠে ভিড় করেছিলেন শত শত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। কিন্তু শূন্য হাতে, চোখের জল নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের। উৎসবের আনন্দ যখন চারদিকে, তখন ধামইরহাটের এই দরিদ্র মানুষগুলোর ঘরে জ্বলবে না উনুন। ক্ষুধার্ত এই মানুষদের প্রশ্ন—গরিবের পেটে লাথি মেরে রাজনীতির এই ভাগবাটোয়ারা কবে বন্ধ হবে?

