
নিজস্ব প্রতিনিধি :
বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার বিতরণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মাঠপর্যায়ের সাধারণ কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে সার নিতে গেলে অধিকাংশ সময় বলা হয়—“সার আসেনি” বা “স্টক শেষ।” অথচ একই সময়ে বাইরের বাজারে একই সার বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে সহজলভ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্পষ্টভাবে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র বা সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় কৃষকদের আরও অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দকৃত সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ডিলারদের ঘনিষ্ঠরা ফোনে বা বিশেষ সুবিধায় সার পেয়ে যাচ্ছেন, অথচ সাধারণ কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা দেশের খাদ্য উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি, তারা যদি সার না পায়, তাহলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে।”
এদিকে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল মনে করছেন, বিতরণ ব্যবস্থায় নজরদারি জোরদার না করলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তারা নিয়মিত মনিটরিং, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি: ১. সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।
৩. সরকারি সার যথাযথভাবে কৃষকের হাতে পৌঁছাতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
4. কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
কৃষকদের মতে, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

