
আল মুজাহিদ-যশোর
যশোরের কেশবপুর উপজেলার চরভূমি সুফলাকাটি ইউনিয়নের বিল খুকশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নানা দুর্ভোগে পড়েছেন কচুরিপানা গ্রাসে কৃষক, ঘের মালিক ও সাধারণ মানুষ। খাল ও বিলজুড়ে কচুরিপানার কারণে নিষ্কাশনের অবস্থা একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবে কচুরিপানা নিধনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী।
বুধবার (২০ মে) বিকাল ৫টার দিকে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিল খুকশিয়া ও কানায়ডাঙ্গা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রম উদ্বোধন এবং কচুরিপানা নিধনে ওষুধ স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিল খুকশিয়ায় প্রবেশের প্রধান পথ কানায়ডাঙ্গা ঘাট বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। ফলে ছোট ছোট নৌকা, ডিঙি কিংবা মাছ ধরার নৌযান নিয়েও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রায় দেড় শতাধিক ঘেরের বাঁধের ওপর চাষ করা বিভিন্ন ধরনের ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন, কিন্তু পানি জমে থাকায় সেই ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। এতে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে আর্থিক সংকট।
কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রম উদ্বোধন করে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই জলাবদ্ধতা চলে আসছে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মানুষ কষ্টে আছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি আমার নজরে আনা হলে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ সহায়তা প্রদান করেছি।
তিনি বলেন, আপাতত এলাকাবাসীর চলাচল ও দুর্ভোগ কিছুটা কমাতে খালের প্রবেশমুখের কচুরিপানা অপসারণে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কচুরিপানা পরিষ্কার হলে অন্তত নৌকা চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং পানি প্রবাহ কিছুটা বাড়বে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ তছিরুর রহমান, উপজেলা কৃষকদল সভাপতি আবুল কাশেম, মেম্বর মাওলানা আবেদীন ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

