
রাহীমুল ইসলাম সজীব-কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে বিল বিতরণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত বিলের কাগজ না পাওয়া, ভুল রিডিং এবং শিক্ষার্থী দিয়ে বিল বিতরণের কারণে গ্রাহকরা আর্থিক চাপ ও দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা সরাসরি বিলের কাগজ বিতরণ না করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এর ফলে অনেক সময় বিল হারিয়ে যাচ্ছে, ভুল বাড়িতে পৌঁছাচ্ছে এবং গ্রাহকরা ঠিকমতো বিল হাতে পাচ্ছেন না।
নাগেশ্বরী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কুটি বাগডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শিক্ষার্থীরা বিলের কাগজ ঠিকমতো বুঝে না দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। পরে বিলম্ব ফি গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, কয়েক মাস পর্যন্ত বিলের কাগজ হাতে পান না তারা। পরে হঠাৎ একসাথে দুই-তিন মাসের বিল এসে জমা হয়। এতে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়ছেন অনেকে।
গ্রাহক সাহাবুল ইসলাম, মাইনুল ইসলাম, মর্জিনা বেগম, যামেনারা বেগম, মফিজুল ইসলাম ও মাহাবুর ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, “দুই-তিন মাস কোনো বিলের কাগজ পাই না। পরে একসাথে অনেক টাকা বিল আসে। আবার মিটারে যা দেখায়, বিলে তার চেয়ে বেশি ইউনিট লেখা থাকে।”
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবায় এমন অব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তারা দ্রুত বিল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং গ্রাহকদের দুর্ভোগ দূর করবে।

