
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসী মোকাররম মিয়াকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী হেলেনা বেগম ও তার কিশোরী মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩।
গতকাল রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে মান্ডা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা এখনো পলাতক রয়েছে।
র্যাব জানায়, মোকাররমকে হত্যার পরদিন ঘাতকেরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করে, বাইরে বেড়াতে যায়, হোটেলে বসে বিরিয়ানি খায় এবং রাতে বাড়ির ছাদে জমকালো পার্টিরও আয়োজন করে!
আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র্যাব-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক সাইদুর রহমান।
তিনি জানান, নিহত মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রামে। একই গ্রামের অপর এক সৌদি প্রবাসী সুমনের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার সূত্রে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে ৫ লক্ষাধিক টাকা পাঠান।
গত ১৩ মে মোকাররম দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে সোজা মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার ভাড়া বাসায় যান। ওই বাসায় হেলেনা তার দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার রাতে তাসলিমার সঙ্গে মোকাররমের বিয়ে নিয়ে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। তাসলিমা বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে মোকাররম তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমার মোবাইলে থাকা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার (ব্ল্যাকমেইল) হুমকি দেন। একই রাতে মোকাররম হেলেনার কিশোরী মেয়ের সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন সকালে নাস্তার সময় মোকাররমকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে হেলেনা বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাসলিমা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন এবং পরে হেলেনা ও তাসলিমা দুজনে মিলে বটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই কিশোরী মেয়েটিও হাতুড়ি দিয়ে মোকাররমের মাথায় আঘাত করেছিল।
মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে রক্ত পরিষ্কার করা হয় এবং ধারালো বটি দিয়ে মরদেহ আট টুকরো করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহের সাতটি টুকরো ভবনের নিচের ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথার অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্য স্থানে ফেলে আসা হয়।
শনিবার দুপুরে ময়লার স্তূপ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দেয়। পুলিশ এসে মরদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে এনআইডি কার্ড ম্যাচ করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব-৩-এর উপ-অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তারকৃত হেলেনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ মোকাররমের খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনাকে গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

