
আল মুজাহিদ-যশোর :
যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি যশোর হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, রোববার গভীর রাতে অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ অভিযানে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে শাহ মাহমুদকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শাহ মাহমুদ অভয়নগরের নওয়াপাড়া পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে অভয়নগর থানার গুয়াখোলা পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থান করছিলেন ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান। এ সময় শাহ মাহমুদ তার সহযোগী নাসিরসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হলে শাহ মাহমুদ কোমরে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানকে এলোপাতাড়ি কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আনিছুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে গত ৭ মে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য সামনে এলে প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ আত্মগোপনে চলে যান। পরে নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রথমে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, মুকিত নামের এক আইনজীবীর সহায়তায় শাহ মাহমুদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এজন্য তাকে যশোর শহরের একটি বাসায় গোপনে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা এবং পালানোর পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস এবং অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম।

