
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের নলগড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলগড়িয়া গ্রামের প্রবাসী আমিনুল ইসলামের স্ত্রী সালমা বেগম তাঁর সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী হিরন মিয়া সরকার, সেলিম মিয়া, হানিফ মিয়া ও শরুফা বেগম গংদের সাথে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জেরে গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসী আমিনুল ইসলামের বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরে থাকা সালমা বেগম ও তাঁর সন্তানদের মারধর করে আহত করে।
ভুক্তভোগী সালমা বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। শুধু তাই নয়, ঘরের আলমারি ভেঙে ভেতরে থাকা নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা এবং আনুমানিক সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর হামলাকারীরা বাড়ির গেটে তাদের নিজস্ব নতুন তালা লাগিয়ে দেয় বলেও স্থানীয়রা জানান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সালমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী প্রবাসে থাকায় সন্তানদের নিয়ে আমি একা থাকি। দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এই হামলার পর থেকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তবে হামলার ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হিরন মিয়া। তিনি দাবি করেন, “ওই জায়গার মাত্র ২ শতক জমির দলিল তাদের (প্রবাসী পরিবার) রয়েছে। বাকি জমি তারা আগে থেকেই জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।”
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ জানান, “৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি মূলত জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি বিষয় নির্ধারণ করা হবে।”

