
দৌলতপুর প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর কলেজ ক্যাম্পাসে বড় বড় পুরাতন ও পরিবেশবান্ধব গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ও সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই কলেজ প্রাঙ্গণের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশ সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কলেজ ক্যাম্পাসের কয়েকটি পুরাতন রেইনট্রি, মেহগনি ও অন্যান্য বড় গাছ কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো বহু বছরের পুরোনো ছিল এবং গ্রীষ্মকালে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ছায়া প্রদানসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছ কাটার পূর্বে বন বিভাগ, শিক্ষা বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি গাছ কাটার বিষয়টি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকেও গোপন রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন মোঃ আরিফুল ইসলাম “নান্নু”, দৌলতপুর কলেজের ডেমোনেস্ট্রেটর মোঃ জহুরুল ইসলাম, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মোঃ বাবুল হোসেন এবং বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সঃ মঃ সরোয়ার। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই গাছ কাটার পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, মোঃ জহুরুল ইসলাম দৌলতপুর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবেও পরিচিত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাছ কাটার পর কাঠ বিক্রির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কিনা সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত কমিটি গঠন বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কেবল সৌন্দর্যের অংশ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে গাছ কাটার ঘটনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অন্যথায় তা বন আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার কারণেই তদন্ত কার্যক্রম ধীরগতির শিকার হতে পারে। তাঁদের ভাষ্য, “আইনের চোখে সবাই সমান হলে, এতদিনেও কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—
“ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, অথচ আজ পর্যন্ত কেন প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না?”
দৌলতপুরবাসী এখন নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।

