
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ এবং ইতোমধ্যে এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকার কোকিল টেক্সটাইল মোড় থেকে সমাজসেবা অফিস পর্যন্ত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন।
রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এই মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য লিমন আল স্বাধীন। প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় ব্যাপক আলোড়ন ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
মিছিলের পরপরই অ্যাকশনে নামে সদর মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের মেড্ডা এলাকা থেকে পৌর ছাত্রলীগ নেতা আবু বক্কর রিফাতকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রিফাত নবীনগর উপজেলার খারঘর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং বর্তমানে শহরের পাইকপাড়ায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতেই সদর মডেল থানার এসআই জাহিদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১নং শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাসিরকে।
ছাত্রলীগের এই ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে রাজপথে নামে জেলা ছাত্রদল। তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউন বের করে এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সদর মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
”নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে মিছিলে অংশগ্রহণকারী বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
বর্তমানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

