
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্লাস্টিকের চাল বিক্রির খবরে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক সাংবাদিক বাজার থেকে কেনা চাল বাড়িতে রান্না করে খাওয়ার পর সেটি প্লাস্টিক সদৃশ বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবুল কালাম জানান, গতকাল সোমবার (১১ মে) রাতে তিনি স্থানীয় একটি দোকান থেকে বস্তার চাল কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। রাতে সেই চালের ভাত খাওয়ার সময় তার সন্দেহ জাগে। পরবর্তীতে তিনি চালটি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে এটি সাধারণ চাল নয়। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে সরজমিনে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিকট তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমি নিজে এই প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমি চাই না অন্য কোনো সাধারণ জনগন এভাবে প্রতারিত হোক। তাই সবাইকে চাল কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে আবুল কালাম জানান, সাধারণ চাল হাত দিয়ে চাপ দিলে বা টিপলে সহজে থেঁতলে যায়, কিন্তু প্লাস্টিকের চাল তেমনটা হয় না। এছাড়া আগুনের কড়াইতে চাল ভাজলে সাধারণ চাল পুড়ে কালো হয়ে যায় বা খই ফোটে, কিন্তু প্লাস্টিকের চাল আগুনের সংস্পর্শে এলে গলে গিয়ে আঠালো হয়ে যায়।
এই বিষয়ে নবীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান হাবিব মুঠোফোনে জানান, প্লাস্টিকের চালে কোনো ধরনের পুষ্টি বা স্বাস্থ্যগুণ নেই। এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই চালের ভাত খেলে পাকস্থলীর সমস্যাসহ শরীরে মারাত্মক বিভিন্ন রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট চাল বিক্রেতা মুঠোফোনে জানান যে, তিনি এই বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে চাল সংগ্রহের সময় আরও যাচাই-বাছাই করবেন এবং জনগণকে সতর্ক করবেন।
বর্তমানে নবীনগরের সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে চাল কেনা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনস্বার্থে উপজেলার প্রতিটি বাজারে চাল কেনার সময় সাবধানতা অবলম্বনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

