
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান :
কুমিল্লার একটি উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে থাকা অবস্থায় এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণে ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান:
ভুক্তভোগী দম্পতি রাতে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা স্বামীকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেখানে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন চালানো হয়।
স্থানীয়রা টের পেয়ে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে। গুজব না ছড়িয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:
ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, “এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।”
আইনি সহায়তা:
মানবাধিকার সংগঠন ‘ব্লাস্ট’ কুমিল্লা ইউনিটের সমন্বয়কারী জানান, তারা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছেন এবং আইনি সহায়তা দেবেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করে ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুযায়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এছাড়া ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয় প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ঘটনায় পুরো জেলায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু আইন করে নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
———————————-
সম্পাদকীয় নোট: দৈনিক জন জাগরণ ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। ভুক্তভোগীর সম্মান রক্ষা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। যেকোনো তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করা হয়। কেউ হয়রানির শিকার হলে ৯৯৯ অথবা ১০৯ নম্বরে কল করুন।

