
মাসুম বিল্লাহ, খুলনা:
দক্ষিণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আসন্ন ৩০ এপ্রিলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার প্রেসক্লাব চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় খুলনা প্রেসক্লাব নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন একদল চিহ্নিত বহিরাগত সন্ত্রাসী ক্লাবে প্রবেশ করে। তারা প্রবর্তন সম্পাদক ও সভাপতি পদপ্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারকে খোঁজাখুঁজি করে গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ‘এখন টেলিভিশন’-এর বিশেষ প্রতিনিধি ও ‘সময়ের খবর’ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
আজকের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান এনামুল হক। সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, পেশাজীবী সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দ্রুততম সময়ে হামলাকারীদের এবং তাদের পেছনের মাস্টারমাইন্ডদের খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করেন খুলনার সাংবাদিকতার কালো অধ্যায়কে। গত দুই যুগে এই জনপদে হুমায়ুন কবীর বালু, মানিক চন্দ্র সাহা, হারুনর রশিদ খোকন এবং শেখ বেলাল উদ্দীনের মতো চারজন সাংবাদিক দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বক্তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম আর কোনো সাংবাদিকের লাশের মিছিল দেখতে চায় না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় সামান্যতম ছাড় দেওয়া হবে না।”
সাংবাদিকদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় যদি বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীও জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দুর্বৃত্তের আশ্রয় আমাদের দল হবে না।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ ঘটনায় খুলনা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খুলনা প্রেসক্লাবে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দেখছেন সাংবাদিকরা। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। প্রশাসনের নির্লিপ্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

