
মো. আবু সালেক ভূইয়া, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পূবাইল বাজার জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা, ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার(২৪ এপ্রিল)এশার নামাজের পর রাতের আঁধারে বাজার সংলগ্ন বালু নদীর পাড়ের একটি চা দোকানে গোপন বৈঠক করে সাধারণ মুসল্লি, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীকে পাশ কাটিয়ে নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষুব্ধ মুসল্লি ও দোকানিরা বাজার সড়কে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মসজিদে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আগামী বুধবার জোহরের নামাজের পর সকল মুসল্লির উপস্থিতিতে উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু সেই ঘোষণা উপেক্ষা করে একই দিন রাতে গোপনে কমিটি গঠন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পূবাইল বাজারের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রাতেই বাজারের বিভিন্ন সড়কে জড়ো হয়ে তারা প্রতিবাদ জানান এবং ‘গোপন কমিটি মানি না’, ‘মসজিদে স্বচ্ছতা চাই’ স্লোগান দিতে থাকেন।
মসজিদের এক মুসল্লি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর। এখানে চুপিসারে কমিটি হবে কেন? আমরা তো নিয়মতান্ত্রিক সভা চেয়েছিলাম। মুসল্লিদের মতামত ছাড়া কোনো কমিটি মানি না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, “আমরা দোকানপাট বন্ধ রেখে মসজিদের জন্য সময় দিই। অথচ আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এটা বাজারবাসীর সঙ্গে প্রতারণা।”
আরেক দোকানি আল আমিন বলেন, “চা দোকানে বসে যদি মসজিদের কমিটি হয়, তাহলে মসজিদের মর্যাদা কোথায় থাকে? এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
স্থানীয়দের দাবি, নবগঠিত কমিটিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ব্যক্তি, ফ্যাসিবাদী দোসর ও পারিবারিক বলয়ের লোকজনকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মুসল্লি ও বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে পূবাইল থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পরে তিনি বাজার কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে একটি অস্থায়ী কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ও ওই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে তিনি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা বলেন, “বিএনপি কখনো গোপনীয়তা ও একতরফা সিদ্ধান্তের রাজনীতি করে না। যদি কেউ দলের নাম ব্যবহার করে এমন কাজ করে থাকে, তা দলের নীতি বহির্ভূত।” তার বিরুদ্ধে দলীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন এবং যুবদল নেতা পনির হোসেনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে পছন্দের লোকজন নিয়ে একতরফা কমিটি করার অভিযোগ উঠেছে ।
সচেতন মহল বলছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গোপনে কমিটি গঠন কোনো শুভ সংকেত নয়। দ্রুত প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনাটি ঘিরে পুরো পূবাইল এলাকায় এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

