
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ শৈলকূপা উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ঘনঘন লোডশেডিং এ জনজীবন চরম পর্যায়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দিন এবং রাত ২( দুই) সময়ের হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া দেড় থেকে ২ (দুই) ঘন্টার বেশি একটানা বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকা,আবার বারবার আসা-যাওয়ার কারণে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শৈলকুপা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে পড়তে বসলে বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার আসার পর ভোল্টেজ ওঠানামা করে। এতে পড়ায় মনোযোগ রাখা যায় না। পরীক্ষা চলছে, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি নেওয়া খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষার সময় অন্তত নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকলে তাদের জন্য অনেক উপকার হতো।’
অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এম.এন. জিসান বলেন, ‘এই গরমে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তারা প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে। দুপুর ও সন্ধ্যার পর প্রায় প্রতিদিনই একই অবস্থা থাকে, ফলে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।’
অভিভাবকরা বলছেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে তাদের সন্তানদের পড়াশোনার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকদের দাবি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নিরব বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরী।
তারা আরও বলেন, এটি শুধু আরাম-আয়েশের বিষয় নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। এমন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকলে পরীক্ষার ফলেও প্রভাব পড়বে।
স্থানীয়রা বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এসএসসি পরীক্ষার সময় লোডশেডিং কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোল্টেজ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা।
বর্তমানে শৈলকূপা উপজেলায় এলাকায় দিন এবং রাত অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সমানভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সমস্যাকে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

