
মোঃ তারিকুল ইসলাম খান
সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এবার নতুন ও কঠোর পদ্ধতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যতিক্রমধর্মী ও ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এবারের প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নারী নেত্রীদের বাছাই করা হচ্ছে। প্রথম ধাপেই মনোনয়ন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যেখানে ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দলীয় শুভাকাঙ্ক্ষী—সবাই আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে সাধারণ কর্মী থেকে নতুন মুখ—সবাই অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
দ্বিতীয় ধাপে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। এতে শুধুমাত্র প্রচারণা বা আলোচনায় আসার উদ্দেশ্যে আবেদনকারীদের সংখ্যা কমে আসে এবং প্রকৃত আগ্রহীদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকে।
পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসা, ঋণসংক্রান্ত তথ্য এবং কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে বলা হয়। এর মাধ্যমে প্রার্থীদের পটভূমি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা নেওয়া হচ্ছে।
সব ধাপ অতিক্রমকারীদের নেওয়া হচ্ছে সরাসরি সাক্ষাৎকারে (ভাইভা)। জানা গেছে, প্রায় ৯০০-এর বেশি আবেদনকারী ইতোমধ্যে মনোনয়ন বোর্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। এ বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত শুক্র ও শনিবার দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ সাক্ষাৎকার কার্যক্রম চলে।
সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের কাছে পাঁচটি মূল প্রশ্ন করা হচ্ছে—দলে যোগদানের সময়, বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান, গত সাড়ে ১৫ বছরে দলের জন্য অবদান, নিজেকে যোগ্য মনে করার কারণ এবং সংসদে নির্বাচিত হলে কীভাবে জনগণের সেবা করবেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, মনোনয়নপত্রের তথ্য যাচাই, সিভি মূল্যায়ন, অতীত রাজনৈতিক অবদান এবং সাক্ষাৎকারের পারফরম্যান্স—সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মনোনয়ন বোর্ড।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অতীতের তুলনায় এবার ‘পছন্দসই’ প্রার্থী বাছাইয়ের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি তুলনামূলক স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে করে ত্যাগী ও নিবেদিত নারী নেত্রীদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে।

