
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী দুই দিনব্যাপী শুঁটকির মেলা। শতাব্দীপ্রাচীন এই মেলায় এবারও ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলা সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র দুই দিনে এই মেলায় প্রায় ৫ কোটি টাকার শুঁটকি কেনাবেচা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই মেলার প্রচলন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগে। এক সময় এটি ছিল মূলত ‘বিনিময় প্রথা’র মেলা। মানুষ শাকসবজি ও কৃষিপণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি সংগ্রহ করত। তবে কালের বিবর্তনে এখন নগদ টাকার মাধ্যমেই লেনদেন হয়। নাসিরনগরের জেঠাগ্রাম থেকে আসা নাফিজা চৌধুরী জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই মেলায় আসছেন এবং ঐতিহ্যের এই পরিবর্তন নিজের চোখে দেখেছেন।
মেলায় দেশীয় মিঠাপানির মাছের শুঁটকির পাশাপাশি সামুদ্রিক শুঁটকিও ছিল নজরকাড়া। ৩০০-এর বেশি দোকানে সাজানো ছিল বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি।
সুনামগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী সুবল দাস সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “বোয়াল, আইড়, শোলসহ বিভিন্ন মাছ এনেছি। চাহিদা এতই বেশি যে মেলা শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টাতেই প্রায় ৩৫ হাজার টাকার বিক্রি করেছি।” কিশোরগঞ্জের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, এই মেলার জন্য তারা সারা বছর বিশেষ প্রস্তুতি নেন।
অন্যদিকে, ক্রেতা মো. ইলিয়াস মিয়া জানান, মেলাটি শুধু কেনাকাটার স্থান নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের এক বড় অংশ।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ওহাব আলী বলেন, “ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জসহ আশেপাশের ৭-৮টি জেলা থেকে কয়েক হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আমাদের ধারণা, দুই দিনে বেচাকেনার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।”
নাসিরনগরের এই শুঁটকি মেলা কেবল ব্যবসার কেন্দ্র নয়, বরং এটি হাওরাঞ্চলের মানুষের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

