
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ
দেশব্যাপী কৃষকদের জন্য চালু হওয়া সরকারের কৃষি কার্ডের বিতরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে শৈলকূপা উপজেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শুরু হওয়া এই কৃষি কার্ডের উদ্যোগে কৃষকদের কাছে সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার বেলা ১১(এগারো) টায় শৈলকুপার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এবং ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান।
টাঙ্গাইল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তিনি ১০ (দশ) জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে পাচপাখিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষাণী জেসমিন আক্তার তার মোবাইলে ২,৫০০ (দুই হাজার পাঁচশত) টাকার নগদ সহায়তার বার্তা পান।
তিনি জানান, তিনি প্রায় ৫ (পাঁচ) থেকে ৬ (ছয়) বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেন এবং এ সহায়তা তার জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।
এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই সরকারি ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সার-বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং নগদ সহায়তা সরাসরি পেতে পারবেন। এতে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে কৃষি খাত আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠে।
শৈলকুপায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। এটি কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

