রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার দুয়ারীপাড়া মৌজায় অবস্থিত ওয়াকফা স্টেটের প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ-এর বিরুদ্ধে এই জমি বিভিন্ন ব্যক্তি—বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, উক্ত জমির ওপর হাইকোর্ট বিভাগ-এ দায়েরকৃত সিভিল পিটিশন মামলা নম্বর ১৫২১/২০২১ অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (স্টে অর্ডার) বিদ্যমান রয়েছে। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী গোপনে বিভিন্ন নামে-বেনামে জমি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃত মালিক ও বরাদ্দপ্রাপ্তদের মধ্যে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি বারবার গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এ বিষয়ে পল্লবী থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “যেহেতু আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেহেতু কোনো পক্ষই এখানে কাজ করার সুযোগ নেই। আমরা বারবার সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছি। এরপরও কীভাবে কাজ চলছে, তা তদন্তসাপেক্ষ।” তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে গণমাধ্যমের অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, দুয়ারীপাড়া মৌজার ৪ নম্বর সিটে অবস্থিত এই ৪৮ একর জমির সিটি জরিপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও কীভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন বা বরাদ্দ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
ওয়াকফা স্টেটের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়মিতভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা। তারা অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি