
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নারী সেজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে রেদোয়ান ইসলাম নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে থানায় তলব করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে কসবা থানায় হাজির হয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।
রেদোয়ান ইসলাম কসবা সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে তার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হলে সম্প্রতি তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেদোয়ান ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি আইডি থেকে নিয়মিত ভিডিও পোস্ট করতেন। টিকটকার হিসেবেও তিনি ‘রিহি’ নামে পরিচিত ছিলেন। ভিডিওগুলোতে তাকে নারীর পোশাকে ও সাজসজ্জায় দেখা যেত। তবে সংগঠন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তিনি নিজেকে ছেলে হিসেবে দাবি করতে শুরু করেন।
গত ৫ এপ্রিল রেদোয়ান ইসলাম ও রিংকু সরকার রবিনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় একটি চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নারী সেজে অশ্লীল ও আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছিল।
এসব কনটেন্ট স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে।
কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের নৈতিক মূল্যবোধের ওপর এসব ভিডিও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেদোয়ানকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তিনি ভবিষ্যতে আর কখনো এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। রেদোয়ানের অঙ্গীকারনামা দেওয়ার সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সম্প্রতি ঘোষিত ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রেদোয়ান ইসলামকে সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছিল। পদ পাওয়ার পরপরই তার টিকটক ও ফেসবুক ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে দ্রুতই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয় সংগঠনটি।

