
মোঃ গোলাম রব্বানী
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বামনডাঙ্গা বাজার এবং তেরখাদা থানার বসুন্ধরীতলা গ্রাম। এই দুই জনপদের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল রূপসা আঠারোবাকি নদীর ওপর নির্মিত একটি কাঠের ড্রাম সেতু। কিন্তু বর্তমানে এই সেতুটি চলাচলের একদমই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া সেতুটি এখন রূপ নিয়েছে এক ভয়ংকর মরণফাঁদে, যার ফলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পুরানো আমলের জরাজীর্ণ কাঠামো জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন মিজান চেয়ারম্যানের উদ্যোগে নামমাত্র কিছু অনুদানে এই অস্থায়ী ড্রাম সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের কিছুদিনের মাথায় সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙে যেতে শুরু করে। বর্তমানে ড্রাম ও কাঠের পাটাতনগুলো ভেঙে নদীর পানিতে মিশে গেছে। ফলে এখন নদী পারাপারে নৌকা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। অসহনীয় দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী বামনডাঙ্গা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। বসুন্ধরীতলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মানুষ এই হাটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় মালামাল নিয়ে হাটে আসা-যাওয়া করা এখন চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। বসুন্ধরীতলা গ্রামের ছেলে-মেয়েরা বামনডাঙ্গা স্কুলে পড়াশোনা করতে আসে। এই ভাঙা সেতু পার হতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নদীতে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে এবং তাদের শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের দাবি
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসীর দাবি, কোনো অস্থায়ী মেরামত নয়, বরং এই স্থানে একটি স্থায়ী পাকা ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ করা হোক। রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া আসনের নীতিনির্ধারক ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলছেন, একটি ব্রিজই পারে হাজার হাজার মানুষের কষ্ট লাঘব করতে এবং এই এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে। এমপি আজিজুল বারী হেলালের দৃষ্টি আকর্ষণ বসুন্ধরীতলা ও বামনডাঙ্গা এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়ার গণমানুষের নেতা আজিজুল বারী হেলালের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা আশা করছেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়ায় এই অবহেলিত জনপদে দ্রুত একটি আধুনিক ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আর নদী পার হতে হবে না।

