
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকাসহ উপজেলার অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এখন সাধারণ মানুষের কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এসব মোড়ে সড়কের গঠনগত সীমাবদ্ধতা এবং গতিরোধক না থাকায় অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। গত রবিবার রাতে বাইপাস এলাকায় ট্রাকচাপায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে ট্রেন থেকে নেমে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন লন্ড্রি ব্যবসায়ী সুবল দাস। সুলতানপুর-আখাউড়া-আাগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কের বাইপাস এলাকা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুবল দাসের মৃত্যু হয় এবং চালকসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই আন্তর্জাতিক সড়কের ঘূর্ণি বা বাইপাস এমনভাবে তৈরি যে, আঞ্চলিক সড়ক থেকে ওঠার সময় ডানে বা বামে গাড়ি আসছে কি না তা বোঝার কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে আন্তর্জাতিক সড়কের চালকরাও বুঝতে পারেন না সামনে কোনো সংযোগ সড়ক রয়েছে।
সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পৌর এলাকার রাধানগর চৌরাস্তা আরেকটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট। কয়েক বছর আগে এখানে বিজরী রানী সাহা নামের এক গৃহবধূ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই মোড়ের পাশেই রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন, যা কোমলমতি শিশুদের জন্য সবসময় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া দেবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মোড়, খালাজোড়া মোড়, তারাগন সেতুর মুখ, দুর্গাপুর রেলগেইট সংলগ্ন সড়ক এবং জাজিরপুল এলাকার মোড়গুলোও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসব স্থানে রাস্তার বাঁক ও গতির আধিক্যের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর মশিউর রহমান বাবুল বলেন, “রাধানগর চৌরাস্তা মোড়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমন কোনো দিন নেই যখন এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে না। আখাউড়া-কসবা সড়কের দুই পাশে দ্রুত গতিরোধক দেওয়া জরুরি। সরকার উদ্যোগ না নিলে এলাকাবাসী নিজেরাই গতিরোধক দিতে বাধ্য হবে।”
সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পলাশ সাহা ও সাজ্জাদ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা দীপংকর ঘোষ নয়নসহ অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে গতিরোধক নির্মাণ ও ট্রাফিক সচেতনতা বাড়ানোর জোর দাবি তুলেছেন।
এ বিষয়ে আখাউড়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. তানভীর হোসেন স্বীকার করেন যে, চার রাস্তার মোড়গুলোতে ইদানীং দুর্ঘটনার হার বেড়েছে। তিনি জানান, জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং ঝুঁকি এড়াতে সবচাইতে বিপদজ্জনক মোড়গুলোতে দ্রুত গতিরোধক দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

