
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যখন বৈশ্বিক সংকট ও দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, তখন গাইবান্ধার বোনারপাড়ায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। ‘গ্রীনভ্যালী পাবলিক স্কুল’ নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের নামে উচ্চ শব্দে ডিজে গান এবং অতিরিক্ত আলোকসজ্জার মাধ্যমে বিদ্যুৎ অপচয় ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত ফুটেজে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে বড় পরিসরে প্যান্ডেল করে উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক বাতি এবং লেজার লাইট ব্যবহার করে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষন হিসেবে আয়োজন করা হয় ডিজে নাচের। যেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের নাচতে দেখা যায়।
জ্বালানি অপচয় ও পরিবেশ দূষণ
সরকারের পক্ষ থেকে যখন অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার এবং মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, তখন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উচ্চ শব্দে ডিজে গান বাজানোর ফলে আশেপাশের সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদায় অনুষ্ঠানের নামে এমন অপসংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
স্থানীয় একজন অভিভাবক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যেখানে দেশের ভালোর জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলছেন, সেখানে স্কুলের মতো জায়গায় এমন অপচয় মেনে নেওয়া যায় না। বিদায় অনুষ্ঠান মানে দোয়া ও আলোচনার অনুষ্ঠান হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এখানে হয়েছে ডিজে পার্টি।”
এ বিষয়ে গ্রীনভ্যালী স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
সরকারের সাশ্রয় নীতির অবমাননা করে এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করে এমন আয়োজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

