
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাসের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক (খণ্ডকালীন) রাজীব হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত কলেজের নৈশপ্রহরী শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ টি এম রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল সোমবার কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট) প্রায় সাড়ে চার শ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অভিযোগ ওঠে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে কলেজের একটি চক্র জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অফিস সহায়ক রাজীব হোসেন ও নৈশপ্রহরী শামীম মিয়ার সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। তবে স্থানীয় মহলে আলোচনা রয়েছে যে, এই চক্রের সাথে কলেজের আরও প্রভাবশালী কেউ জড়িত থাকতে পারেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই খণ্ডকালীন কর্মচারী রাজীব হোসেনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং সরকারি কর্মচারী হওয়ায় শামীম মিয়ার বিষয়ে অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম খান জানান, “আমরা নিবিড়ভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।”
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ টি এম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”
এদিকে অভিযুক্ত রাজীব হোসেন ও শামীম মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন। এমনকি তারা কর্মস্থলেও উপস্থিত হচ্ছেন না।

