
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা
গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্র পৌর পার্ক সংলগ্ন ডিবি রোডে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে স্থায়ীভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব দোকান চালু থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১৫টি ফুচকা ও চটপটি বিক্রেতা ফুটপাত দখলের পাশাপাশি মূল সড়কের একটি বড় অংশ জুড়ে স্থায়ীভাবে দোকান বসিয়েছেন। প্রতিটি দোকানের সামনে ১৫-২০টি করে চেয়ার-টেবিল বসানো হয়েছে, যার ফলে পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। এতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
পথচারীরা জানান, পৌর পার্কে অবসর সময় কাটাতে এলেও স্বস্তিতে হাঁটার সুযোগ পাওয়া যায় না। ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকান স্থায়ীভাবে বসে থাকলেও কোনো কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কোনো প্রভাবশালী মহল বা অসাধু চক্রের মদদে এই অবৈধ দখলদাররা বহাল তবিয়তে ব্যবসা পরিচালনা করছে কিনা-এমন প্রশ্নও উঠেছে জনমনে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পৌর পার্কের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত জায়গা ব্যবহার করায় পার্কের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে নগরীর নান্দনিকতা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি জনসাধারণের স্বাভাবিক বিনোদন ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, শহরের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা গাইবান্ধা পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশেষ করে, গাইবান্ধা পৌরসভার সম্মানিত নির্বাহী প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অবিলম্বে এ অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা এবং জনস্বার্থে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
