রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা ঢাকা-১৭ আসনকে দখলবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এই এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জমির প্রকৃত মালিকানা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই তাদের জমি দখল হয়ে যাওয়ার শিকার হচ্ছেন। এমনকি সরকারি খাস জমিও দখল করে অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন হওয়ায় এই আসনটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে এখানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার উদ্বেগজনক। একই চিত্র পাশের ঢাকা-১৬ আসনেও দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী মহল—যাদের মধ্যে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের নামও উঠে এসেছে—এই অবৈধ দখল ও প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত। অতীতে তাদের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, কালশী-পল্লবী এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাদের মতে, এখানে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে, বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ আরও জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে।
ইসিবি চত্বর জিরো পয়েন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো এখনো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব জায়গা দ্রুত দখলমুক্ত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ মানুষ।
এছাড়া, কিছু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিও এসব অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। তাদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিমত, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক কাজ করছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে সেই অর্জন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবশেষে, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দখলবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে ঢাকা-১৭ আসনকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিণত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।