
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার থাকায় মো. দ্বীন ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দ্বীন ইসলাম ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলাধীন একটি নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। পরে তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা শফিকুল ইসলামের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে দ্বীন ইসলাম তার ফেসবুক পেজ থেকে এলাকার মাদক কারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ প্রচার করে আসছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক কারবারিরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দ্বীন ইসলাম নিজের ফেসবুক পেজে এক লাইভ বক্তব্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, তার ওপর হামলা বা তাকে হত্যা করা হতে পারে। সেই বক্তব্যে তিনি সম্ভাব্য হামলাকারীদের নামও উল্লেখ করেছিলেন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহতের সাথে এলাকাভিত্তিক ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ছিল। তবে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ গণমাধ্যমকে জানান, নিহত দ্বীন ইসলাম মাদক নিয়ে লেখালেখি করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

