
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ :
আমরা নারীদের কাছে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করতে আসিনি।
বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর ।
এমন শক্ত বার্তা দিয়েই বক্তব্য শুরু করেন আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান।
রোববার সকাল ১০ (দশ) টায় শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে, শৈলকুপা সরকারি কলেজের প্রয়াত শিক্ষক-অধ্যাপকদের স্মরণে এক স্মরণসভা, সম্মাননা প্রদান ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শৈলকুপা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল হোসেন, স্মরণসভায় প্রয়াত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আলিম উদ্দীন, অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন, অধ্যাপক লক্ষীকান্ত দাস, অধ্যাপক মসহাব, অধ্যাপক সদর উদ্দীন শিকদার ও অধ্যাপক মুন্সি আব্দুল ওয়াদুদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। তাদের শিক্ষা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এটিএম শহিদুল ইসলাম বাবু, হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, মিজানুর রহমান বাবলু সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে প্রয়াত শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানে কোনো নারী সদস্য বা নারী নেত্রী নেই, এটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি শৈলকুপার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে বলেন, শৈলকুপার লাঙ্গলবাধ ব্রিজের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আজই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছি। সে কারণেই আমাকে দ্রুত সেখানে যেতে হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, শৈলকুপার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ুক-আমরা সেই ব্যবস্থা করছি। উন্নয়নের জন্য আমাকে মসলা বানিয়ে দিন, আমি ভালো রান্না করতে পারি। আপনারা পাশে থাকলে সব ধরনের উন্নয়ন সম্ভব।
শেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, এই শৈলকুপায় কেউ বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করতে পারবে না।
অনুষ্ঠানটি শৈলকুপার শিক্ষাঙ্গনে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

