
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার গাইবান্ধা সদর উপজেলায় বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে দিনের বেলায় ঘরে ঢুকে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ফুলছড়িগাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের সরদার পাড়া গ্রামে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটির বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে শিশুটির ওপর নারকীয় নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে তাকে গুরুতর ও মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হত্যার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) ছাড়াই শিশুটির মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যার শিকার হওয়া কক্ষটি সিলগালা করেছে ঠিকই, কিন্তু কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার কোনো কূলকিনারা বা সূত্র (ক্লু) এখনো উদ্ধার করতে পারেনি।
নিহত শিশুর মামা ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “৭ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুর কী অপরাধ ছিল? দিনের বেলায় এভাবে ঘরে ঢুকে হত্যার পরও প্রশাসন নীরব। দেশে কি এভাবেই সব চলবে? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

