আন্তর্জাতিক আঙিনায় আমাদের যথেষ্ট ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। ফলে দক্ষিণ এশীয় গেমসের বাইরে কারাতেকারা ঠিক সেভাবে এক মুঠো সম্ভাবনার রোদ্দুর হয়ে উঠতে পারছেন না। একটু উদাহরণ টেনে বললে ব্যাপারটা এমন দাঁড়ায়, কারাতে এ উপমহাদেশের পরাশক্তি ভারতের কথা না হয় বাদই দিলাম; কিন্তু অন্য যেসব দেশ রয়েছে তারা যোজন যোজন এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান কারাতের আরেক পরাশক্তি ইরানে গিয়ে প্র্যাকটিস করছে। নেপাল করছে ইন্দোনেশিয়ায়, শ্রীলঙ্কা করছে মালয়েশিয়ায়। আর আমরা করছি এনএসসি টাওয়ারের সিঁড়ি কোথায়! এমন পরিবেশ থেকে যদি এসএ গেমসে এই (৭টি স্বর্ণপদক) রেজাল্ট আনতে পারি, তাহলে আমাদের ক্রীড়া নীতিনির্ধারকরা আর একটু যত্ন নিলে আরও ওপরে উঠতে পারতাম। এভাবেই বিনয়ের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক তারকা কারাতেকা, কোচ ও অগ্রগণ্য ক্রীড়া সংগঠক সপ্তম ড্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু। পনের বছর পর ফের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর পরিকল্পনার কথাগুলো জানিয়েছেন দৈনিক জন জাগরণের বিশেষ প্রতিনিধিকে। কারাতের অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আলাপচারিতার চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন :আপনার কারাতে শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু : ১৯৮২ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রথম জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা থেকেই খেলে আসছি। বর্তমান সভাপতি শাহজাদা আলম ও কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হাসান আমরা এক সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে খেলা শুরু করি। প্রথম দু’তিন বছর অবশ্য সাফল্য পাইনি। তবে ১৯৮৫ সালে এসে প্রথম সাফল্যের মুখ দেখি। ৫৫ কেজি কুৃমিত ইভেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিলাম। সেই থেকে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তারপর ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে টানা তিন মৌসুম মোহামেডানের (মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড) হয়ে ফেডারেশন কাপ জিতেছি। এরপর ১৯৮৮ ও ১৯৮৯ সালে মোহামেডানের হয়ে দুইবার কারাতে লিগ জিতেছি। কিন্তু খেলার চেয়ে কোচিং এর দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ায় ১৯৯১ সাল পর্যন্ত খেলাধুলা করেছি।
প্রশ্ন : কখন কিভাবে কোচিং ক্যারিয়ারে জড়ালেন ?
সেন্টু : আশি দশকে যখন খেলাধুলা করতাম তখন থেকেই একটু-আধটু করে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু। সে সময় আমরা কারাতে মোহামেডান (মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড) টিম গঠন করি। আবার বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) টিম করেছিলাম। একই সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ টিম তৈরি করেছিলাম। সার্ভিসেস সংস্থার কর্মকর্তারা আমাদের দিয়ে টিম করাতেন। টিম পরিচালনার দায়িত্ব দিতেন। মোটামুটি এ তিন টিমের খেলোয়াড় জোগাড় করা থেকে শুরু করে ট্রেনিং করানো-সবটাই দেখভাল করতে হতো। এভাবেই কোচিং এর দিকে ঝুঁকে পড়ি। সে সময় আবাহনীও (আবাহনী লিমিটেড) অংশ নিত।
প্রশ্ন : সংগঠক হলেন কখন কীভাবে?
সেন্টু : মোহামেডান তখন ফুটবল-ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সেখানে কারাতে ছিল না। আমরাই নিজ উদ্যোগে কারাতে টিম করে খেলতাম। যখন সাফল্য পাওয়া শুরু হলো তখন মোহামেডান কারাতে কমিটি গঠন করে। ১৯৮৭-৯০ সাল মেয়াদি কমিটিতে আমাকে সেক্রেটারি করা হয়। এভাবেই সাংগঠনিকভাবে জড়িয়ে পড়ি। সেই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বাহরুল হাসান সবুজ।
প্রশ্ন : সাংগঠনিকভাবে জড়িয়ে পড়ার পর আবার জাপান গিয়েছিলেন কেন?
সেন্টু : ১৯৯১ সালে কারাতে ডিপ্লোমা করতে দেড় বছরের জন্য জাপান গিয়েছিলাম। সেখানে ওয়ার্ল্ড সোতোকান কারাতে ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে ডিপ্লোমা কোর্স কমপ্লিট করি। তখন আমাদের ট্রেনিং করাতেন ওয়ার্ল্ডের বেস্ট কোচ হিরো কাজু কানাজাওয়্যা। আমার খেলোয়াড়ি জীবনের স্বপ্নই ছিল, তাঁর কাছে যদি কোনো দিন ট্রেনিং করতে পারতাম। আলহামদুলিল্লাহ, সে সুযোগ হয়েছিল। ব্যয়বহুল এ ডিপ্লোমা কোর্সের পেছনে সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস ও মোহামেডানের সভাপতি আবদুল মোনেম সাহেবের বিশেষ অবদান ছিল। এরপর ২০০১ সালেও আবার দেড় বছরের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো বিশেষ কোর্সে অংশ নিতে জাপান গিয়েছিলাম।
প্রশ্ন : আপনি বলছিলেন আপনি কারাতেকা ছিলেন। কিন্তু সোতোকানে ডিপ্লোমা? ব্যাপারটা বুঝলাম না। কারাতে ও সোতোকানের মধ্যে পার্থক্য কী?
সেন্টু : ওয়ার্ল্ড কারাতে ফেডারেশন হচ্ছে কারাতের কেন্দ্রবিন্দু। এই ফেডারেশনের আন্ডারে তাদের রুলস অনুযায়ী কয়েকটি শাখা রয়েছে। যেমন সোতোকান, সিতোরিউ, ওয়াদোকাই, গোজোরিউ। এগুলোর কম্বাইন্ড নিয়েই হলো ওয়ার্ল্ড কারাতে ফেডারেশন। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন সবসময় ওয়ার্ল্ড কারাতে ফেডারেশন ফলো করে। এ খেলায় আসতে হলে কোনো না কোনো ছেলেমেয়েকে সোতোকান, সিতোরিউ, ওয়াদোকাই, গোজোরিউ যেকোনো একটি ফলো করতে হয়।
প্রশ্ন : তবে সংগঠক হিসেবে কারাতে ফেডারেশনে এলেন কবে?
সেন্টু : একসময় কারাতে ও জুডো একত্রে ছিল। ২০০১ সালে জুডো থেকে বেরিয়ে কারাতে ফেডারেশন হয়। এরপর ২০০৬ সালে ফেডারেশনের প্রথম নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এ সময় খেলাটি ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। এর মধ্যে চারবার বিভাগীয় কারাতে প্রতিযোগিতা করেছিলাম। ঢাকার বাইরে প্রথমবার চট্টগ্রামে জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতা জেলা পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। জাপান অ্যাম্বাসির সহায়তায় জাপান কাপ করেছিলাম। এমনকি, ২০১০ সালে এসএ গেমসে বেস্ট রেজাল্ট ছিল ৪টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ৩টি তাম্রপদক। আমি মনে করি, এটাই ছিল কারাতের স্বর্ণযুগ। এ সময় স্পন্সর হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল ও ব্যাংক এশিয়া। কিন্তু পরবর্তী কমিটি এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।
প্রশ্ন : এরপর তো সহসভাপতিও হয়েছিলেন। সময়টা কেমন কেটেছিল?
সেন্টু : ২০১০-১৮ সাল পর্যন্ত ফেডারেশনে ছিলাম না। তবে ৮ বছর পর ২০১৮-২০২৪ সাল পর্যন্ত ফেডারেশনের সহসভাপতি ছিলাম। এ সময় আগের কমিটির চেয়ে ফেডারেশন সচল রাখতে চেষ্টা করেছি। ২০১৯ সালে নেপালে এসএ গেমসের সামনে রেখে আমাকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৩টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ১২টি তাম্রপদক পেয়েছিলাম। ২০১০ সালেও ঢাকা এসএ গেমসে কোচ ছিলাম।
প্রশ্ন : ফের ১৫ বছর পর সাধারণ সম্পাদক হয়ে ফেরার অনুভূতি কেমন লাগছে?
সেন্টু : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সার্চ কমিটির মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার অনুভূতির চেয়ে যে কারণে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা পালন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। কারাতে নতুন করে আবার প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করব। বিভাগীয় কারাতে, জাপান কাপ ফের শুরু করার চেষ্টা করছি। প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে চাচ্ছি। ফেডারেশনের কার্যক্রমগুলো নিয়মিতকরণের চেষ্টা করছি।
প্রশ্ন : আপনি একটা সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসেছেন। কারাতে কি ধরনের সংস্কার করার ইচ্ছে ?
সেন্টু : অতীত নিয়ে ঘাটতে চাই না। তবে দায়িত্ব পালনে যদি বিদায়ী কমিটির কোনো অনিয়ম চোখে পড়ে, তাহলে কমিটির সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। বলতে পারেন, আমিও তো আগের কমিটিতে ছিলাম। কিন্তু দেখতে হবে একজন সহসভাপতির দায়িত্ব কতটুকু এবং একজন সাধারণ সম্পাদক ও একজন কোষাধ্যক্ষের কাজের পরিধি কতটা। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন। সবে মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। নতুন করে অডিট করব। সেখানে অনিয়ম বা দুর্নীতি পেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করব।
প্রশ্ন : বিদায়ী কমিটি ফান্ড কেমন রেখে গিয়েছিল?
সেন্টু : দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকে সাড়ে ১৯ লাখ টাকা ব্যালেন্স পেয়েছি। এর বাইরে কারাতের কিছু ক্রীড়াসামগ্রী পেয়েছি। তবে কোনো ঋণ রেখে গেছে কি না, ফাইলপত্র ঘেঁটে দেখতে হবে।
প্রশ্ন : স্পন্সর কেমন পাচ্ছেন?
সেন্টু : কারাতে কখনোই নির্দিষ্ট কোনো স্পন্সর প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। যখন যাঁরা কমিটিতে এসেছেন, তখন তাঁরা হয় নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে চালিয়েছেন, নয়তো পারসোনাল রিলেশনের কারণে দু-চারটে স্পন্সর পেয়েছেন। তবে স্পন্সর-সংক্রান্ত গত মিটিংয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর স্পন্সরের খোঁজে জোরেশোরে নামব। আমরা যারা কমিটিতে আছি, সবাই মিলে বছরে চলার মতো প্রয়োজনীয় স্পন্সর জোগাড়ে সক্ষম হব।
প্রশ্ন : গতানুগতিক কার্যক্রমের বাইরে নতুন কোনো ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
সেন্টু : ফেডারেশনের নিয়মিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমাকে নতুন কিছু করে দেখাতে হবে। এ মুহূর্তে যাঁরা দেশসেরা, যাঁরা উদীয়মান ও যাঁরা উঠতি কারাতেকা রয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশেষ প্রশিক্ষণ, দেশের বাইরে নিয়মিত অংশগ্রহণ ও নানা রকম সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক কারাতে আমাদের রেজাল্ট বরাবরই ভালো। তবে টাইম টু টাইম চেঞ্জিং না হলে সেটা ধরে রাখা সম্ভব নয়। আমার প্রথম টার্গেট এসএ গেমসে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করা। এরপর এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসে পদক জয়ের অবস্থান তৈরি করা। এর বাইরে যেসব আন্তর্জাতিক কারাতে রয়েছে, সেখানে সাফল্য অর্জন করা।
প্রশ্ন : আগের প্রশ্নে আপনি পরিকল্পনার কথা বলছিলেন, কিন্তু কারাতের যেখানে নিজস্ব ভেন্যু নেই সেখানে এ খেলার ভবিষ্যৎ কিভাবে দেখছেন?
সেন্টু : এ খেলার যদি ভবিষ্যৎ না-ই থাকত তাহলে নিশ্চয়ই এসএ গেমসে কারাতেকারা স্বর্ণপদক জিততে পারতেন না। আন্তর্জাতিক আঙিনায় আমাদের আরও ভালো করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভেন্যুর জন্য ঠিকমতো টুর্নামেন্ট করতে পারছি না, ন্যাশনাল টিমকে সারা বছর প্র্যাকটিসে রাখতে পারছি না, নানা রকম কার্যক্রম চালাতে পারছি না। হাজারো সমস্যার মধ্যেও এগিয়ে চলেছি। তবে আমরা কারাতে ফেডারেশনের জন্মলগ্ন থেকে নিজস্ব ভেন্যুর জন্য দাবি করে আসছি। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য ৪৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তা পাইনি। তারপরও ভেন্যুহীন কারাতেকারা তাঁদের সাধ্যমতো আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দিচ্ছেন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছেন। আমার বিশ্বাস বর্তমান সরকার নিশ্চয়ই আমাদের বিশেষ বিবেচনায় রাখবেন।
প্রশ্ন : প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের কারাতে কতটা এগিয়ে বলে মনে করেন?
সেন্টু : আপনি যদি পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখেন তাহলে কারাতের উন্নতিটা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সাল থেকে। যার প্রাপ্তি মিলেছে ২০১০ সালে এসএ গেমসে সর্বোচ্চ ৪টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য আর ৩টি তাম্রপদক। ওই গেমসে আমরা কারাতের পদক তালিকায় ভারতের ওপরে ছিলাম। কিন্তু ২০১০ সালের পর কারাতে ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝতে পারবেন ওই সময় কতটা আন্তর্জাতিক সাফল্য এসেছে।এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, তখন আমি ফেডারেশনে ছিলাম না। তবে ২০১৮ সালের পর দেশের কারাতে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ফলে ২০১৯ সালে নেপালে এসএ গেমসে ৩টি স্বর্ণ, ৩টি রৌপ্য ও ১২টি তাম্রপদক এসেছে। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে আরও ভালো রেজাল্ট করার সামর্থ্য রয়েছে কারাতেকাদের। এ ছাড়া আমাদের প্রতিটি জেলায় এক-দুজন করে মানসম্পন্ন কোচ রয়েছেন। আমাদের জাজ অ্যান্ড রেফারি মানও ভালো। তাঁরা ওয়ার্ল্ড কাপ, এসএ গেমস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নজির রেখেছেন।
প্রশ্ন : কারাতেকা, কোচ ও সংগঠক-কোনটিতে আপনি সফল মনে হয়?
সেন্টু : নিজেকে একজন সফল কোচ ভাবতে ভালো লাগে। ন্যাশনাল টিমে ১১ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ এসএ গেমসে যে ৭টি স্বর্ণপদক জিতেছে, তার কোচ ছিলাম আমি। প্লেয়ার হিসেবে নিজের কথা কি আর বলব। খেলায়াড়ি অবস্থায় ক্লাব, সংগঠন করতে গিয়ে ক্যারিয়ার বড় করতে পারিনি। সংগঠক বলতে অতীত অভিজ্ঞতা আমার বড় সম্পদ। একবার করে প্রতিদিন ফেডারেশনে আসতে হয়। পড়ন্ত বেলায় এমন দায়িত্ব পালনে এনজয় করছি।
প্রশ্ন : দায়িত্ব পালন শেষে কারাতেকে কোথায় রেখে যেতে চান?
সেন্টু : এখন আমার ৬২ বছর চলছে। আমার শেষ ইচ্ছা হচ্ছে যেকোনো গেমসে টার্গেট করে যোগ্যতার মাপকাঠিতে ১০ থেকে ১২ জনকে দেশের বাইরে লংটার্ম ট্রেনিংয়ে পাঠানো। সেটা হতে পারে এশিয়ান গেমস কিংবা ওয়ার্ল্ড কারাতে। সেখান থেকে অন্তত একটা পদক দেশকে উপহার দিতে পারলে আমার ৪২ বছরের কারাতের সাধনা সফল হবে। আমি চলে গেলেও যেন লংটার্ম ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকে, তা করে যাব।