
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আজ রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে নগর ভবনের সভাকক্ষে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বিদায়ী প্রশাসক ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ তাঁর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা: নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনে পৌঁছালে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে নবনিযুক্ত প্রশাসককে বরণ করে নেন উপস্থিত সকলে।
দুর্নীতিমুক্ত ও সেবামুখী সিটির অঙ্গীকার: দায়িত্ব গ্রহণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “খুলনা মহানগরীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সেবাধর্মী নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে আমি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, “সিটি কর্পোরেশন হবে চাঁদামুক্ত ও সাধারণ মানুষের আস্থার একটি প্রতিষ্ঠান।”
অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা: বরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি তাঁর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিনি নগরীর প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং রাস্তাঘাটের সংস্কার কাজে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে কেসিসির পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অসুস্থতার কারণে তিনি কয়েকদিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। খুলনাবাসী আশা করছেন, তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বে নগরীর স্থবিরতা কেটে যাবে এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

