
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
পবিত্র মাহে রমজানের রহমতে সিক্ত প্রথম ১০ দিন অতিবাহিত হলো। আজ সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল রহমতের দশকের এবং শুরু হলো রমজানের দ্বিতীয় ভাগ বা মধ্যবর্তী ১০ দিন, যাকে ইসলামের পরিভাষায় বলা হয় ‘মাগফিরাত’ বা ক্ষমার দশক।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন রহমত, মাঝের ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষ ১০ দিন নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য নির্ধারিত। মুমিন মুসলমানরা গত ১০ দিন মহান আল্লাহর অশেষ রহমত কামনায় সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন। এখন থেকে তাদের মূল লক্ষ্য হবে বিগত জীবনের গুনাহ ও ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
মাগফিরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য: মাগফিরাত শব্দের অর্থ হলো ক্ষমা করা। ১১তম রমজান থেকে ২০তম রমজান পর্যন্ত এই ১০ দিন মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ ক্ষমার দৃষ্টি দেন। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মানুষ হিসেবে আমাদের চলার পথে অনেক ভুলত্রুটি ও পাপ হয়ে যায়। এই ১০ দিন হলো সেই পাপগুলো ধুয়ে-মুছে নিজেকে পবিত্র করার শ্রেষ্ঠ সময়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজানের এই সময়ে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য জাহান্নামিকে ক্ষমা করে দেন এবং তাদের জন্য জান্নাতের ফয়সালা করেন। তাই এই সময়ে বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা এবং তওবা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের প্রস্তুতি: জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মাগফিরাতের প্রথম তারাবিতে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। খতিব ও ওলামায়ে কেরামরা খুতবা ও বয়ানে মাগফিরাতের ফজিলত তুলে ধরছেন। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে দান-সদকা বাড়িয়ে দিয়েছেন যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হয়।
মাগফিরাতের এই দিনগুলোতে বেশি বেশি এই দোয়াটি পড়ার পরামর্শ দেন আলেমরা:
“রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন”(হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।)
রহমতের বারিবর্ষণের পর এখন মাগফিরাতের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরকালের মুক্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রত্যাশায় বিভোর ধর্মপ্রাণ মুসলিম উম্মাহ।
