
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় বালুসন্ত্রাসীদের তাণ্ডব থামছেই না। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের কঠোর নির্দেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এলাকায় আবারও সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন সাধারণ মানুষ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নদী তীরবর্তী চরলাপাং এলাকায় গত রবিবারের হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ মান্নান। সেখানে আয়োজিত এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে তিনি হামলায় জড়িত বালুসন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনও মাহমুদুল হাসান ও নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

তবে এমপির এই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাত ১০টার দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামে ফিরে আসে সন্ত্রাসীরা।
চরলাপাং গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) জীবন মিয়া জানান, “এমপি সাহেব বিকেলে নির্দেশ দিয়ে যাওয়ার পরই রাতে সন্ত্রাসীরা ককটেল ফুটিয়ে মহড়া দেয়। এতে গ্রামবাসী দিশেহারা হয়ে পড়ে। আমি সাথে সাথে থানায় গিয়ে ওসি সাহেবকে বিষয়টি অবগত করেছি।”
গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নাসিরাবাদ বালুমহালের ইজারাদার ও বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের সশস্ত্র বাহিনী চরলাপাং এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটতে এলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ১০ জন গ্রামবাসী আহত হন। এই ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ‘স্বর্ণমহল’ খ্যাত এই বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ পান শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন পায়েল। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে শতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষি জমি ও নদী তীরের কাছ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে চরলাপাং ও আশপাশের গ্রামগুলো ভয়াবহ নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এই অবৈধ বালু উত্তোলন সচল রাখতে স্থানীয় প্রভাবশালী সাহেব সর্দার এবং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী নিয়মিত মোটা অঙ্কের ‘মাসোহারা’ বা মাসকাবারি টাকা পান। এ কারণেই বারবার জেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। নবীনগর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নূর আলমও স্বীকার করেছেন যে, এলাকার অনেক সর্দার আগে মাসোহারা পেতেন, তবে গত দুই মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “গোলাগুলির ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি। তবে আমরা বসে নেই, সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান চলছে। আজকের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

