
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে তিনি তার যোগদানপত্র তুলে দেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পাশাপাশি এদিন দেশের আরও পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকরাও তাদের যোগদানপত্র হস্তান্তর করেন।
গণতান্ত্রিক ধারা ও জনসেবার অঙ্গীকার: যোগদান শেষে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছিল এবং কোথাও প্রকৃত নির্বাচন ছিল না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আগের শাসনামলে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই সিটি কর্পোরেশনগুলোতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার বক্তব্যে খুলনার নাগরিকদের জন্য বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক কাজের কথা উল্লেখ করেন:
নাগরিক সেবা: জনগণের ভোগান্তি দূর করা এবং তাদের দাবিগুলো সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা: শহরের মশা নিধন এবং ‘ক্লিনিং সিটি’ বা পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
উন্নয়ন ও সংস্কার: দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের সহযোগিতা গ্রহণ।
মাদক ও দখলমুক্ত খুলনা: খুলনাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এবং অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি খুলনাবাসীর জন্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন এবং খুলনার উন্নয়নের জন্য যা যা করণীয় তার সবই করবেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি সবসময় আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করব। খুলনার হারানো গৌরব এবং নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে আনাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

