
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ১২ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল থেকেই খুলনার প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে মাঠ পর্যায়ের তথ্যে জানা গেছে।
খুলনা-২ আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩৫,২৪১ জন। যার মধ্যে,পুরুষ ভোটার ১,৬৫,৭৬২ জন,নারী ভোটার ১,৬৯,৪৬৯ জন,হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ): ১০ জন ।মোট ভোটকেন্দ্র: ১৫৭টি। বুথ ৬৬৬টি
সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় পর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। ভোটারদের মতে, গত ১৭ বছরে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ তারা দেখেননি।
নির্বাচনী এলাকার ১৫৭টি ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন। তরুণ থেকে বৃদ্ধ—সব শ্রেণির মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু গণমাধ্যমকে জানান, “মানুষের এই ভালোবাসা আমাকে অভিভূত করেছে। গত ১৭ বছর মানুষ কথা বলতে পারেনি, ভোট দিতে পারেনি। আজ তারা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনছে। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।”
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভাইয়ের স্নেহধন্য আসাদুজ্জামান মুরাদ ভাই বলেন,সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ সময় পর মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটাররা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করেছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন যে, জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত রায় তাদের পক্ষেই যাবে এবং তারা এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন।সকালে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনায় মৃত্যু হয় খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি’র। তিনি বলেন,আমরা চাই না আর কোনো কর্মী আঘাতে মৃত্যুবরণ করুক। কোথাও কোনো দুঃসংবাদ আসুক আমরা তা চাই না
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিকেলের দিকে ভোট গণনা শুরু হবে এবং রাতেই প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে।
খুলনাবাসীর প্রত্যাশা, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই খুলনার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

