
নিজস্ব প্রতিনিধি :
শবে বরাত বা মহিমান্বিত রজনী মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফারসি ‘শব’ মানে রাত আর ‘বরাত’ মানে মুক্তি। অর্থাৎ শবে বরাত হলো মুক্তির রাত। হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিই হলো শবে বরাত।
পবিত্র কুরআনের সূরা আদ-দুখানে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
“হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চয়ই আমি তা এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়।” (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ১-৪)মুফাসসিরগণের একটি বড় অংশের মতে, এখানে ‘বরকতময় রাত’ বলতে শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবানকে বোঝানো হয়েছে। এই রাতে পরবর্তী এক বছরের হায়াত, মউত এবং রিজিকের ফয়সালাগুলো ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস নিচে তুলে ধরা হলো:
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন,”আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে (শবে বরাতে) তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৫৬৬৫)
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,”এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে দেখলাম তিনি জান্নাতুল বাকিতে রয়েছেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি জানো এটি কোন রাত? এটি হলো শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত। এই রাতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন।” (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)
হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,”যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত আসে, তখন তোমরা রাত জেগে ইবাদত করো এবং পরদিন রোজা রাখো। কারণ সূর্যাস্তের পর মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন— আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কোনো রিজিক অন্বেষণকারী, যাকে আমি রিজিক দেব? আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত, যাকে আমি বিপদ থেকে মুক্তি দেব? এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ঘোষণা হতে থাকে।” (ইবনে মাজাহ)
শবে বরাতের মতো পবিত্র রাতে কিছু পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। হাদিসে বিশেষভাবে দুই প্রকার ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যারা এই রাতেও ক্ষমা পায় না:
মুশরিক: যে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করে।বিদ্বেষ পোষণকারী: যার অন্তরে অন্যের প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতা থাকে।
এছাড়া পটকা ফাটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা শরিয়ত বিরোধী কোনো মেলা বা উৎসবে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
শবে বরাত হলো ইবাদত, তওবা এবং মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। এই রাতে নিরিবিলি নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং বিগত জীবনের পাপের জন্য কান্নাকাটি করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়াই হলো প্রকৃত মুমিনের কাজ। মহান আল্লাহ আমাদের এই রাতের বরকত নসিব করুন। আমীন।

