
মোঃ শিহাব উদ্দিন :
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিভিন্ন সময়ে সরকার জনগণকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে কিংবা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
একটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকে থাকে জনগণের ভোটাধিকারের ওপর। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই ভোটাধিকার নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবার নির্বাচনী মাঠে মূল লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।
সর্বশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটের মাঠে বিএনপি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান প্রায় ২২ শতাংশ। এছাড়া এনসিপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলগুলো মিলিয়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে পোস্টাল ব্যালেট, যা ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সহযোগিতায় বাহিনীর একতরফা ভূমিকা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার করেও ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় দক্ষ ও নিরপেক্ষ টিমের মাধ্যমে কঠোরভাবে তদারকি করা জরুরি। অন্যথায় মাত্র ২০-২২ শতাংশ সমর্থনপ্রাপ্ত শক্তি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

