
নিজস্ব প্রতিনিধি :
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০০ আসনের মধ্যে যেসব আসন সবচেয়ে আলোচনায়, তার অন্যতম ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসন। এই আসনে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় যুবদলের সম্রাট শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফলে এই আসনটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী দৌড়ে শুরু থেকেই শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এগিয়ে রয়েছেন বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। তবে জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রার্থী হওয়ায় এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
এ আসনের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মামুন হাসান, যিনি নিজেও এই আসনে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনিও দৌড়ে ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয় শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে। এতে শুরুতে কিছু মতভেদ দেখা দিলেও দলীয় ঐক্যের স্বার্থে মামুন হাসান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের পক্ষে মাঠে থাকবেন এবং ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার সারাদিন ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকায় শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সঙ্গে একযোগে প্রচারণায় অংশ নেন মামুন হাসান। তাদের যৌথ প্রচারণায় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন এলাকায় খণ্ড খণ্ড মিছিল ও প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার, যার মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটার প্রায় সমান। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যদি ৭৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়, তাহলে জামায়াত প্রায় ৭০ হাজার ভোট পেতে পারে। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ১০ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীর দাবি, তারা এই আসনে এক লাখ পর্যন্ত ভোট পেতে পারেন। তবে সামগ্রিক জরিপে ধানের শীষ প্রতীক এগিয়ে রয়েছে বলেই প্রতিফলিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, যাকে সব সময় কাছে পাওয়া যাবে, জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াবে, তাকেই তারা বেছে নেবেন। সে ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভোটার শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের প্রতিই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন।
এখন শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠের হিসাব কোন দিকে যায়, সেটিই দেখার বিষয়। ঢাকা-১৫ আসনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো দেশ। দিন যতই ঘনিয়ে আসবে, নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়বে এবং নতুন নতুন সমীকরণ সামনে আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

