
মাহফুজ আহাম্মেদ মুন্না :
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বাসাবাড়ির কাজের কথা বলে এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার পর তার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নিখোঁজ শিশুটির নাম মোছাঃ বিথী আক্তার। তার বাড়ি হুশিয়ারপাড়া, থানা নন্দীগ্রাম, জেলা বগুড়া। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিথী আক্তার ছোটবেলা থেকেই তার নানা-নানির কাছে লালিত-পালিত হয়ে আসছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১৩ বছর আগে, যখন বিথী আক্তারের বয়স আনুমানিক ১৪ বছর, তখন বাসাবাড়ির কাজের কথা বলে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ রিয়াদুল হাসান রিয়াদ (পিতা: মোঃ জলিল খন্দকার) তাকে নিজের হেফাজতে নিয়ে যান। পরে তাকে রিয়াদুলের খালাতো ভাই শান্তর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবার দাবি করেছে।
পরিবারের ভাষ্যমতে, শুরুতে মেয়েটিকে মাঝে মাঝে বাড়িতে ফেরত আনা হলেও একপর্যায়ে তাকে আর পরিবারের কাছে পাঠানো হয়নি। পরবর্তীতে বিথী আক্তারের খোঁজ নিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা ধরনের টালবাহানা করতে থাকেন এবং একসময় দাবি করেন যে মেয়েটি নাকি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে। তবে সে কীভাবে, কখন ও কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার ৬ নম্বর গলিতে একটি থ্রি-পিস পোশাক কারখানা রয়েছে, যেখানে কাজ করানোর উদ্দেশ্যেই বিথী আক্তারকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের ধারণা।
একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মেয়েটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক রূপ নেয়।
এ ঘটনায় নিখোঁজ বিথী আক্তারের স্বজনরা নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মেয়েটিকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

