
আল-হাফিজ-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) :
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গিরিশনগর মৌজায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারগুলো ঘরবাড়ি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কয়েকজন ভূমিহীন ব্যক্তি।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মিলন শেখ (পিতা: বাকু শেখ), পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং সোহাগ শেখ (পিতা: বাকু শেখ), পেশায় দিনমজুর। তারা দুই ভাইসহ মোট আট ভাই-বোন,স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে তারা চরম কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান।
ভূমিহীন দুই ভাই জানান, নিজেদের কোনো জায়গা-জমি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা গাড়ফা গ্রামে অন্যের জমিতে বসবাস করে আসছেন। ন্যূনতম বাসস্থানের অভাবে পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
মিলন শেখ ও সোহাগ শেখ আরও জানান, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার আশায় তারা একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতৃবৃন্দের কাছে মৌখিকভাবে আবেদন করেছেন। তবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি। তারা বলেন, অশিক্ষিত হওয়ায় প্রশাসনিকভাবে লিখিত আবেদন করতেও তারা অসহায়ত্ব বোধ করছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মোল্লাহাট উপজেলার গিরিশনগর মৌজায় অবস্থিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট নয়টি ঘর রয়েছে। ২৪ জানুয়ারি (শনিবার)দুপুরে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে মাত্র তিনটি ঘরে তিনটি পরিবার বসবাস করছে। বাকি ছয়টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী কিছু নেতা টাকার বিনিময়ে প্রয়োজন যাচাই না করেই নিজেদের পছন্দের লোকদের এসব ঘর বরাদ্দ দেন। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় মানুষরা আশ্রয়ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত এক নারী অভিযোগ করে জানান, গাড়ফা গ্রামের কাঞ্চু শিকদার (পিতা: জালাল শিকদার) একটি ঘর বরাদ্দ পেলেও সেখানে বসবাস করেন না। বরাদ্দকৃত ঘরে মাঝে মাঝে জুয়ার আসর ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের আড্ডা বসে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কাঞ্চু শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে পরিবার নিয়ে নিজের বাড়িতে বসবাস করি। বরাদ্দ পাওয়া ঘরে নিয়মিত থাকি না, মাঝে মধ্যে যাই।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে কেন ছয়টি ঘরে কোনো পরিবার বসবাস করছে না তা খতিয়ে দেখা এবং প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে ঘরগুলো পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া।
ভূমিহীন দুই যুবক বলেন, “আমরা যদি দুটি সরকারি ঘর পেতাম, তাহলে পরিবারের সদস্য ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারতাম। স্বল্প আয়ে বর্তমান বাজারে ভাড়া দিয়ে থাকা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

