
নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার ও সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, এবারের ব্যালট পেপারের নকশা ও ভাঁজ করার পদ্ধতি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, ব্যালট ভাঁজ করলেই প্রায় ১০ শতাংশ ভোট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে ব্যালট পেপারের এই ত্রুটি সংশোধনের দাবি জানান।
একই সঙ্গে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অঘোষিতভাবে ব্যালট পেপার পাওয়া যাচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এসব ব্যালট পেপার বাইরে আসছে, কারা এগুলো সরবরাহ করছে এবং কার সহায়তায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তিনি গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।
বিএনপির নেতারা মনে করছেন, এসব অনিয়মের ফলে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই জনআস্থাহীনতায় পড়েছে। তাদের দাবি, এনসিপি কিংবা জামায়াতকে সুবিধা দিতে নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের প্রার্থিতা বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করে বিএনপি।
দলটির অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কোনো মহল এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে—যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ সংকেত। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সম্ভাব্য ভোটের হার যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে জামায়াতসহ তাদের মিত্র দলগুলোর ভোটের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়। এমন পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচনে অনিয়ম বা কারচুপি ঘটে, তবে দেশ গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন শুধু সরকার নয়—দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই অবিলম্বে সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

