
মো. মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন-এর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৩রা জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ রাশেদুল ইসলাম।
শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং বর্ষীয়ান নেতা জনাব নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি তাঁর বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক জীবন এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর অসামান্য ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “আমাদের নেত্রী ৪১ বছর ধরে বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বৈরশাসক এরশাদ এর ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপির চরম সংকটের মুখে বেগম জিয়া দলটির হাল ধরেন।”
তৎকালীন সময়ে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থাকার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “ঢাকায় কাশেম চৌধুরীর নেতৃত্বে এক সভায় সকলের অনুরোধে বেগম জিয়া সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। সেই সভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন— তোমরা যার যার এলাকায় যাও এবং বিএনপিকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করো; নেতাদের গিয়ে বলো খালেদা জিয়া রাজনীতি করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, বেগম জিয়া দীর্ঘ ৩০ বছর গণতন্ত্রের আন্দোলনে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর কাজের মাধ্যমেই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন ধারার রাজনীতির যাত্রা শুরু এবং ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ নিরাপত্তার বিষয়ে বেগম জিয়ার দেওয়া বার্তার গুরুত্বও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, মনিরুজ্জামান মনি ,জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান সহ খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি ,জামায়াতে ইসলামী এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।বক্তারা দেশনেত্রীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁর অবদানকে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির আসাদুজ্জামান মুরাদ,জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, নজরুল ইসলাম বাবু,ইউসুফ হারুন মজনু এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বেগম জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

