
জহুরুল ইসলাম জপি-শেরপুর :
শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারি ইউনিয়নের নতুন ভাগলগড় এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজিং কার্যক্রমের কারণে নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে নদীর পাড় ঘেঁষে থাকা বহু কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, ঝুঁকিতে পড়েছে ঘরবাড়িও।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নদীর দক্ষিণ পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় আকারে ধস সৃষ্টি হয়েছে। এসব জমিতে আগে ধান, ভুট্টা ও নানা মৌসুমি ফসল চাষ হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং করা বালু নদীতীরে ফেলানোর পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাশের জামালপুরের মেলান্দহ এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে নদীর তীর ভরাট না হয়ে বরং আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষক জসিম মিয়া বলেন, অপরিকল্পিত খননের কারণে আমার ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। যদি এভাবে ভাঙন চলতেই থাকে তাহলে ঘরবাড়িও রক্ষা করা যাবে না। আমরা চাই উত্তোলিত বালু এখানেই ফেলা হোক, তাহলে ভাঙন কিছুটা হলেও কমবে।
অন্য বাসিন্দা নোমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রায় ৫০ একর চাষযোগ্য জমি ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। আমরা অতিদরিদ্র মানুষ, শেষ ভরসাটুকুও যদি হারাই তাহলে কোথায় দাঁড়াব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক জানান, যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

