
নিজস্ব প্রতিনিধি :
জীবন গতিশীল। জীবন কারো জন্যে থেমে থাকে না। সময়ের সাথে আপনি গতিশীল না থাকতে পারলে আপনি হয়ে যাবেন জরাজীর্ণ। কর্মজীবী মানুষ কর্মজীবনে থাকতে থাকতে একটা অভ্যস্ততা গড়ে তুলে। ঘড়ির কাঁটা ধরে সময় হিসেব করে চলতে থাকে। এক সময় কর্মজীবনের সমাপ্তিতে অবসর নামক জিনিস জীবনে চলে আসে। তখন মানুষ হয়ে যায় খুব নিঃসঙ্গ এবং অসহায়। তার দৈনিক কর্মকাণ্ড আর থাকেনা। থাকেনা ঘড়ি ধরে ঘুম থেকে উঠে অফিসে যাওয়ার তাড়া। তিনি হয়ে যান গতিহীন যদিনা তিনি অন্য কোনো পেশায় যোগদান না করেন। কিন্তু তার নিকটবর্তী লোকজন আগের মতন গতিশীল থাকেন।যারফলে তিনি কথা বলার মতন কাউকে খুঁজে পান না। জীবনের এই পর্যায়টা খুব বেদনা দায়ক। দিনের পর দিন একা থাকতে থাকতে মানুষ এক সময় অন্যের বিরক্তের পাত্র হয়ে যায়। তখন মানুষ খুঁজে সঙ্গতা ।
এক থাকা কে একটা বিশেষ গুণ বলা হয়। আর এই গুণ টা হলো একটি কষ্টদায়ক গুণ। আর কোনো গুণ এমনি অর্জন করা যায় না। এর জন্য লাগে সাধনা। তাই কর্মমুখর থাকা কালীন সময়ে থেকেই নিজের একাকী থাকার খোরাক জোগাড় করতে থাকুন। একা থাকার অভ্যাস করুন। নিজের সঙ্গ উপভোগ করুন। নিজেকে সময় দিন। নিজের একান্ত কিছু সময় বের করুন। সেই সময় টুকু নিজের মতো করে কাটান। নিজের একাকিত্ব সময় পার করার জন্য নিজের কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন। হয় বই পড়ার অভ্যাস করুন, অথবা মুভি দেখুন, অথবা ছবি আঁকা অথবা ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করা, বাগান করা, ভ্রমণ, ইত্যাদি জা আপনাকে করতে ভালো লাগে। এই অভ্যাস গুলা কর্মমুখর থাকা অবস্থায় গড়ে তুলুন, তাহলে অবসর জীবনে গিয়ে হটাৎ ধাক্কা খেতে হবে না।
মানুষের কাছ থেকে নিজের এক্সপেক্টেশন কমান। কেউ এসে আপনার একাকিত্ব দূর করে দিবেনা। আপনার একাকিত্ব আপনাকেই দূর করতে হবে। যখন আপনি একা থাকার অভ্যাস গড়ে তুলবেন তখন দেখবেন অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবেন। মানুষের থেকে যত দূরে থাকবেন তত কষ্ট কম পাবেন। এখন মানুষ শুধু নিজের প্রয়োজনে অন্যের সাথে মিশে। মুক্ত মনে কেউ করো সাথে মিশে না। তাই একাকিত্ব দূর করার জন্য সঙ্গ না খুঁজে নিজের সঙ্গ উপভোগ করুন। নিজেকে নিজের শখের কাজে ব্যাস্ত রাখুন।

